সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আগামী ২৩ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী চলতি মাসের মধ্যেই মামলার রায় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বহুল আলোচিত এ মামলার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এদিন মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, সুরতহাল সাক্ষী জালালাবাদ থানার কনস্টেবল জোনাকী এবং ফাহিমার লাশ গুমের চেষ্টায় ব্যবহৃত চাদর উদ্ধারের সময় উপস্থিত সাক্ষী কামরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আগামী ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।
এদিকে মামলার অন্য দুই আসামি জাকির হোসেনের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালাম এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের গাফিলতির কারণে তারা এখনো অধরা রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুমের চেষ্টায় সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। একইসাথে চলতি মাসের মধ্যেই মামলার রায় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের চার বছর বয়সী মেয়ে ফাহিমা আক্তার নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ১১ মে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ফাহিমাকে হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ জাকির হোসেন, তার ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার এবং অন্য দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।