শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় জলবায়ু সঙ্কট, জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত সমাধান এবং সরকারের করণীয় দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ ) শ্যামনগর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বারসিকের যৌথ আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রান্তিক কৃষাণী লতা রানী।
তার বক্তৃতায় উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা সঙ্কট; যেমন- লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির অভাব, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, নদী ভাঙ্গন, জীবিকায় অনিশ্চয়তা এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, এসব সঙ্কট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং টেকসই সমাধান না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, খাল-নদী পুনঃখনন, লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের কাছে কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকূল উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ জলবায়ু বাজেট বরাদ্দ, নিরাপদ পানির টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জলবায়ু নীতি বাস্তবায়ন।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্থানীয়/লোকায়ত জ্ঞানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কীটনাশকের অবাধ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারের উপর প্রশাসনের নজরদারিতে কর্পোরেট সিন্ডিকেট প্রতিরোধ ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন কৃষকের জীবন-মান উন্নয়নে প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করে সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা দাবি করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস, এম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী (উপকূলীয় অঞ্চল) রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর বরসা গাইন প্রোগ্রাম অফিসার মারুফ হোসেন মিলন, কৃষক নিমাই মন্ডল, দেলোয়ারা বেগম, বাসন্তী মন্ডল, গৌরাঙ্গ মন্ডল, সাইদুল ইসলাম, জান্নাতুল নাইমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।