সিলেটে হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরে বিভাগে হামে ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গে দুই বছর বয়সী আরমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু আরমান সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কারো হাম শনাক্ত না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪৮ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে হামে ও হামের উপসর্গে মোট ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকি ১০৭ জন শিশু। মৃতদের মধ্যে মাত্র চারজনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছিল, অন্যরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। এরপর সিলেটে ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন মারা গেছেন।

এদিকে, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৫৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ২৯৬ জন, সিলেটে ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন এবং মৌলভীবাজারে ২৭ জন রয়েছেন।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ২৪৮ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯১ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আটজন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে তিনজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুইজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন।