মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমারত হোসেনের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়।
দফতরিরা জানান, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সদর উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রতিমাসে ১৬ হাজার ৬৭৩ টাকা বেতন পেয়ে আসছেন তারা। পাচ্ছেন বৈশাখী ভাতা ও বছরে দু’টি ঈদ বোনাস। সেই হিসেবে গত বৈশাখী ভাতা তিন হাজার ৩৩৬ টাকা ও ঈদ-উল-আযহার উৎসব ভাতা আট হাজার ৩৩৪ টাকা করে দেয়ার কথা প্রত্যেক দফতরিকে। কিন্তু ৫৬ দফতরির কেউই এই ভাতা ও বোনাস পাননি। বেশ কয়েকবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বাধ্য হয়ে নায্য দাবি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা। পরে দুপুর ২টার দিকে কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ত্যাগ করেন তারা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার দফতরি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইমারত হোসেন বলেন, ‘সামান্য বেতন পায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত দফতরিরা। এ বছর সরকার প্রদেয় ভাতা ও বোনাস না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উৎসব আনন্দে কাটাতে পারেনি। তাই জরুরিভিত্তিতে এই বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মৃধা বলেন, ‘মাদারীপুর জেলার অন্য উপজেলার দফতরিরা এই উৎসব ভাতা ও বোনাস পেয়েছে। কিন্তু সদর উপজেলার দফতরিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা আমাদের নায্য পাওনা দেয়ার অনুরোধ করছি।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমরাত হোসেন বলেন, ‘একদিকে বরাদ্দ নেই, অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকায় উৎসব ভাতা ও বোনাস দেয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আবারো চিঠি দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া জবাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’