মো: রেজোয়ান ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী)

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। জলাবদ্ধতায় এখনো কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী, আর তীব্র স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের শঙ্কা।

উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে রাতভর বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে।

এর আগে, সোমবার রাত ১০টায় একই পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে পানি কমতে শুরু করলেও তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিশুদ্ধ পানি, রান্নার ব্যবস্থা এবং গবাদিপশু রক্ষা নিয়ে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

গতকাল সোমবারের আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এদিকে পানি নামতে শুরু করলেও নদীর তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে তীর রক্ষাবাঁধ ও নদীপাড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে গেলে নদীভাঙন শুরু হয়ে বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বাবর আলী বলেন, অনেক পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছে। পানি বাড়তে থাকায় সবাই নির্ঘুম রাত পার করছেন। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় তিস্তার পানি নামছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। সে কারণে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বাড়া বা নদীভাঙনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।