বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যান প্রভৃতি মালবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে ২৫ (পঁচিশ) বছর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) থেকে বর্ণিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
তারা জানায়, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য উল্লিখিত ‘ইকোনমিক লাইফ’ মেয়াদোত্তীর্ণ বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান প্রভৃতি মালবাহী মোটরযানের বিরুদ্ধে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে সারাদেশে একযোগে দিনে ও রাতে অভিযান পরিচালিত হবে।
এদিকে সরকারের এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে একই দিন (৩০ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন। বাস, মিনিবাস ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ‘ইকোনমিক লাইফ’ বা অর্থনৈতিক আয়ু নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘মরার উপর খড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের সদস্য সচিব মো: হুমায়ুন কবীর সোহেল লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ডলারের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশের অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে মাস শেষে পরিবহন মালিকদের হাতে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এর মধ্যে আবার ২০ থেকে ২৫ বছরের ‘ইকোনমিক লাইফ’ নির্ধারণ করা মানেই ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়া।’
তিনি জানান, ১৯ জুন ঘোষিত নতুন প্রজ্ঞাপনে বাস-মিনিবাসের আয়ু ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের আয়ু ২৫ বছর নির্ধারণ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবহন মালিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো ঢাকার বাইরে নতুন ‘ইকোনমিক লাইফ’ প্রজ্ঞাপন স্থগিত করা, গাড়ির আয়ু ও নীতিমালা নির্ধারণে বিভাগীয় মালিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, বাণিজ্যিক মোটরযানের অগ্রিম আয়কর ও বিআরটিএ ফি আগের মতো বহাল রাখা, প্রাইভেট কোম্পানির কাছে ফিটনেস পরীক্ষা হস্তান্তরের বিরোধিতা, বিআরটিএ-এর আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিক সহায়তা জেলায় জেলায় সম্প্রসারণ, ২০১৮ সালের ‘কালো আইন’ সংশোধন, অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় নীতিনির্ধারণ ইত্যাদি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত না করা হয়, তবে গণ ও পণ্য পরিবহন খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে মালিকদের কিছুই করার থাকবে না। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সব স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে, অন্যথায় এ সিদ্ধান্ত দেশে সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সহ-সভাপতি একরামুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সোহেল, কমিশনার নাজিম উদ্দিন আহমেদ, আজিজুল হক, সৈয়দ হোসেন, মো: কামাল উদ্দিন, অলি আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী এবং মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ।