কক্সবাজারের উখিয়ায় রেহেনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে তার গলায় ফাঁস ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
শনিবার (৫ জুলাই) উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহত রেহেনা আক্তারের গ্রামের বাড়ি রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে তার বিয়ে হয় উখিয়ার জালিয়াপালংয়ের আব্দু সালামের সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার নিজের পরিবারের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন রেহেনা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে রেহেনার স্বামী ফোন করে জানান, রেহেনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পর দিন সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বজনরা গিয়ে দেখেন, রেহেনা মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার গলায় ফাঁসির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এতে পরিবারের সদস্যরা এটাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেন। রেহেনার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি ঈদগড় ইউনিয়নে দাফন করা হয়। পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনিব্যবস্থা নেবে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কয়েক দিন আগে জালিয়াপালং ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি রোধে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি গৃহবধূ রেহেনা হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।