ফেনীতে ২০১৪ সালে গুম হওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুল হক রিপনকে ফিরে পেতে আজও ছেলের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার বৃদ্ধা মা রোশন আরা বেগম।

আজ শনিবার দুপুরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ফেনী ইউনিটের আয়োজনে ফেনী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রিপনের মা রোশন আরা বলেন, ২০১৪ সালে আমার ছেলে মাহবুবুর রহমান রিপনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে (র‍্যাব) বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়। আমরা জানতে পারি, ফেনী আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা এই ঘটনার সাথে জড়িত। বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়েও কোনো সুবিচার পাইনি। থানা পুলিশ মামলা পর্যন্ত নেয়নি।

ছেলের জন্য রোশন আরার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সভাস্থল।

তিনি বলেন, আমার ছেলে বিএনপির যেই নেতার অনুসারী ছিল, তারাও আজ আমাদের খবর নেয় না। ১১ বছর ধরে বিচারের আশায় ঘুরছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। আমি চাই অন্তর্বর্তী সরকার আমার ছেলের গুমের বিচার করুক। রিপনের মতো আর কেউ যেন গুমের শিকার না হয়, সেজন্য রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রোশন আরা বেগম।

অধিকার ফেনী ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক আনন্দ তারকা সম্পাদক এম মামুনুর রশিদ, ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহমদ আলী, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার, দৈনিক সুপ্রভাত ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফিরোজ আলম, জাসাস ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি কাজী ইকবাল আহমেদ পরান।

এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক শাহজালাল ভূঁইয়া এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিকার প্রতিনিধি তন্বী সোম, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নসু, রিপনের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান সোহাগ, মুস্তাফিজুর রহমান শিপু, আরটিভির ফেনী প্রতিনিধি এম এ আকাশ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সভা শেষে ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গন থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হয়।