নাটোরের নলডাঙ্গায় ফাঁস জাল দিয়ে চার শতাধিক শালিক ও বক শিকার করে জবাই করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ জুলাই) উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা এলাকার একটি বিলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটবিলা এলাকার বিলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাখি শিকার করে আসছে। রোববার চক্রটি ফাঁস জাল দিয়ে বিপুলসংখ্যক শালিক, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে। পরে সেগুলো জবাই করে বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়। প্রকাশ্যে পাখি শিকার ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকাতে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মহির উদ্দিন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিকার করা পাখির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ হতে পারে। পাখিগুলো জবাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভাগাভাগি করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা না হলে এ ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয়। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিপ্লব তালুকদার ও আশিক হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘শালিক ও বক প্রকৃতির বন্ধু। এসব পাখি হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, পাখি শিকারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।