আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা ঘিরে সিলেটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোটের প্রতারক চক্র। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট ও শপিং মলকে টার্গেট করে জাল টাকার নোট সরবরাহ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

সিলেটে এমনই এক জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। নগরীর হযরত শাহাজালাল মাজার এলাকা থেকে জাল নোট সরবরাহকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৩ মে) র‌্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সোমবার (১২ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে শাহজালাল রহ: মাজার গেটে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল।

অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে নগরীর বন্দরবাজারের লালবাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে আরো তিনজনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার পীরের বাড়ী এলাকার মৃত ঠাকুর চাঁদ বালার ছেলে গুরু চাঁদ বালা (৩৮), শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার লগারপাড়া এলাকার হাবুল মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৫), বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার হাদি বাঁশকাঠি এলাকার আব্দুল বারেক সরদারের ছেলে সোহাগ সরদার (৩৩) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার নগরপাড়া এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে রাশেদ মিয়া (৩০)।

র‌্যাব জানায়, আটকদের কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৭০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি জনবহুল বাজার ও ছোট দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতারণা করত।

তারা কম দামের পণ্য কেনার অজুহাতে বড় অংকের জাল নোট দিত এবং দোকানির কাছ থেকে ভাংতি হিসেবে আসল টাকা নিয়ে নিত। এ ছাড়া কোরবানির পশুর হাট ঘিরেও তাদের টার্গেট ছিল।

র‌্যাব-৯ জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।