পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলগ্রাম মৌজায় জমি দখল, গাছপালা কর্তন, ভাঙচুর এবং মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, প্রায় ২০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে।
বাদী প্রহলাদ রায়ের দাবি, জমিটি তাদের পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে একটি মনসা মন্দির, জিআই তারের বেড়া, সিমেন্টের পিলার এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন আসামিরা জমিতে প্রবেশ করে বেড়া ও পিলার ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি সাধন করে। এতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্তরা জমির ঘেরা, আম ও মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলে এবং সিমেন্টের পিলার পাশের দীঘিতে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় এবং পরে আদালতে মামলা করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, ফলে স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।
তবে আসামি সীতানাথ বর্মন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়। তিনি দাবি করেন, তার প্রাপ্য অংশের জমি তিনি দখলে নিয়েছেন এবং গাছপালা কাটা বা অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ১১ ও ১৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।