ফারাক্কার কারণে ৬ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, ‘মারণ বাঁধ ফারাক্কার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চল কারবালায় পরিণত হয়েছে। আমরা ভারতের সাথে চুক্তি নবায়ন করব। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব।’

শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৪৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেন, ‘মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সেদিন গুরুতর অসুস্থতা নিয়েই এই ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে। এই নেতৃত্ব আজও দেশপ্রেমিক জনতার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘যে ক্লসগুলো আছে ফারাক্কা চুক্তিতে, সেটা আমরা আদায় করার চেষ্টা করব। ফারাক্কার কারণে ছয় কোটি মানুষ সরাসরি, কিন্তু পরোক্ষভাবে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। জীবন-জীবিকা, খাদ্য, মাছ, জলজ প্রাণী সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানি শুকিয়ে গেছে। ফারাক্কা এই দেশে কারবালা তৈরি করেছে। কাজেই এর বিচার আমরা চাইব।’

ফারাক্কা লংমার্চের ৪৯তম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি, নদী গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী।

এ সময় সম্মানিত অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব, প্রাচ্যসংঘ যশোরের পরিচালক লেখক ও গবেষক বেনজিন খান, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মো: যহুর আলী, রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা: ওয়াসিম হোসেন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। সঞ্চালনায় ছিলেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ও আরইউজের সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিকুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গঙ্গা-পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা তথা পানির জন্য লড়াইয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তারা বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মওলানা ভাসানী যে উপলব্ধির প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন আজ তা বাস্তবে ঘটে চলেছে।

ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ তার প্রবন্ধে বলেন, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘মারণ বাঁধ ফারাক্কা’ অভিমুখে লাখো জনতার ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। যার রেশ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছে যায়। আজও এই দিনটি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের পক্ষে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

এ সময় সভায় এ উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।