নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মীর গুলিতে জামায়াতের দুই যুব কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার সকালে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর আগে, রোববার রাতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বেতুয়াবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- মো. সজীব হোসেন (২০) ও মো. তুষার (২১)। তারা দুজনই গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সদস্য এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মো: জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গোপালপুর হাইস্কুল মাঠে মনির পাটোয়ারী স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মী রাসেলের সাথে বিএনপি কর্মী মানিকের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় যুবদল কর্মী হাবিব ও ছাত্রদল কর্মী মহসিনের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী এলাকায় মহড়া দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরদিন শনিবার রাতে জামায়াত কর্মীদের ধরতে পুনরায় তল্লাশি চালানো হয়। এরপর রোববার রাতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলাকালে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হাবিবের নেতৃত্বে লেদু, সোহেল, ফয়সাল, আশরাফ, হাসেম, মেরাজ ও মানিক জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে হাবিব এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন, এতে সজীব ও তুষার গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে যুবদল কর্মী হাবিব ও ছাত্রদল কর্মী মহসিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আজিম সুমন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।’

এদিকে, নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির এসাক খন্দকার এবং সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দিন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।