নিহত মন্টু দাসের বাড়িতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় সার্কির হাউজে পৌঁছবেন তিনি। নয়া দিগন্তকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল লতিফ।
নিহত মন্টু দাসের স্বজনদের দাবি, মেয়েকে অপহরণের পরে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মন্টু দাস থানায় মামলা করেন, এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার চার দিনেও শনাক্ত হয়নি হত্যাকারী।
এ ঘটনায় মন্টু দাসের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় আরেকটি মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হলেও অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশসূত্রে জানা যায়, অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি সৃজীব চন্দ্র রায়ের বাবা শ্রীরাম রায়, সৃজীবের সহযোগী কালু ও রফিক। এ মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি সৃজীব রায়সহ গ্রেফতার সবাই আদালতের নির্দেশে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার ১১ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি করইতলা নামক এলাকার নিজ বাড়ির পেছন থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে বরগুনা সদর থানায় নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন।
নিহত মন্টুর বাড়িতে দেখা যায়, দেড় মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন মন্টুর স্ত্রী। চার বছর ও ১০ বছর বয়সী দুই মেয়ের চোখে বাবা হারানোর শোক।
নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েকে ধর্ষণের পর আমার স্বামী বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। পরে যে দিন মামলার তারিখ তার আগেই রাতে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সন্দেহ হয় ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ড করেছে। স্বামীকে হারিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। কীভাবে আমাদের সংসার চলবে তা জানি না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর বরগুনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল লতিফ জানান, নিহত মন্টু চন্দ্র দাসের সার্বিক খোঁজ খবর নিতেই কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমান সোমবার সকালে বরগুনা আসছেন। এ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আছে এবং সবসময় থাকবে।