কুষ্টিয়ায় চোর সন্দেহে সুরমান খান (৪৭) নামে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে শহরের রেনইউক চরের মোতালেবের বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, সুরমানকে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তুলে নিয়ে যায় হাকিমের লোকজন। এরপর বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাকিমের বাড়িতে আটকে মারধর করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাকে আর হাকিমের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

নিহতের ভাতিজা সজল বলেন, ‘কলোনির হালিম বিক্রেতা হাকিমের বাড়িতে চুরির ঘটনায় আমার চাচা সুরমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলেন।

এসপি জানান, এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দোষী ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

জানা যায়, আবদুল হাকিম শহরের থানা মোড় এলাকায় মিশন স্কুলের সামনে দীর্ঘদিন ধরে হালিম বিক্রি করেন। আজ দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ডাকাডাকি করেও কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীরা জানান, আজ সকালে পুলিশ হাকিম ও তাকে স্ত্রীকে নিয়ে গেছে। নিহত সুরমানের লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম।

তিনি বলেন, ‘লাশের দুই পাসহ পিঠে ব্যাপক মারধরের চিহ্ন রয়েছে। পায়ের কয়েক স্থানে কাটা রয়েছে; পিঠে রক্ত জমাট বাঁধা। গলায় রশি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই ঘটনা ঘটছিল। বিষয়টি কেউ জানায়নি। নিহতের শরীরে টর্চারের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে চুরির অভিযোগে মারা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’