রাঙ্গামাটিতে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত কাপ্তাই হ্রদ। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে লেকের সৌন্দর্য। প্লাস্টিক বর্জ্য শহরের রাস্তা, নালা-নর্দমা হয়ে সরাসরি পড়ছে কাপ্তাই হ্রদে। যার ফলে দিন দিন পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেছে, প্লাস্টিক ব্যবহারে মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে না পারলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। শহরের হাট বাজারগুলোতে এখনো অবাধে পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে। খালি হাতে বাজারে এসে প্লাস্টিক ব্যাগে বাজার করে ঘরে ফিরছে মানুষ। ফলে পলিথিন নিষিদ্ধ থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়রা জানায়, শহরের বনরূপা, তবলছড়ি, রির্বাভ বাজার তিনটি প্রধান বাজারসহ পৌরসভার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা হলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই এর একটি বড় অংশই প্লাস্টিক কাপ্তাই হ্রদে গিয়ে পড়ছে। হ্রদে ভেসে যাওয়া এ বর্জ্য শুধু জলজ প্রাণী নয়, মানুষের স্বাস্থ্যেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। হ্রদের পানি দূষিত হয়ে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে হ্রদের মাছসহ অন্য জলজ প্রাণীও হুমকির মুখে পড়ছে।
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। রাঙ্গামাটি পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন মানিকছড়ির রেডিও স্টেশন এলাকায় অবস্থিত। শহরের সকল বর্জ্য ফেলা হয় এখানেই। তবে ফেলে দেয়া বর্জ্যর মধ্যে প্রায় ১০ ভাগ প্লাস্টিক পোড়ানো হয়, যা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় শিমুলতলী ও রেডিও স্টেশন এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দুর্গন্ধময় পরিবেশে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ। এর মধ্যে অনেক বর্জ্য বৃষ্টির কারণে পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে হ্রদে পড়ে।
এই অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদকে দূষণের হাত থেকে রক্ষায় দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির সচেতন মহল। তারা মনে করেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৌরসভার উদ্যোগ আরো জোরালো না হলে কাপ্তাই হ্রদে পরিবেশের বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।