কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামে মরহুম বাদশা মিয়া চৌধুরীর পৈত্রিক সম্পত্তি জবর-দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ১টায় সাবেক রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজ উদ্দিন বাবু।
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ উদ্দিন বাবু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে জসিম আজাদ গত পাঁচ বছর ধরে মরহুম বাদশা মিয়া চৌধুরীর খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি জবর-দখল করে রেখেছেন। অথচ সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে শালিসি বৈঠকে জমির কাগজপত্র দেখে বাদশা মিয়ার পরিবারের পক্ষেই রায় হয়েছিল। সেই রায় এখনো সংরক্ষিত আছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য জসিম আজাদ কাজ করছেন। গত কয়েক দিন আগে মরহুম বাদশা মিয়া চৌধুরীর ছেলে তাইমুন উদ্দিন চৌধুরী ওই পৈত্রিক সম্পত্তিতে টিনের ঘেরা দিয়ে দখল নেন। আমি তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। এরপর জসিম আজাদ বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেন যে আমি ওই জমি দখলে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মানহানি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুল হক, দুলাল মেম্বারসহ অনেকে। তারা ঘটনাটি ‘পূর্ব পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে বাদশা মিয়া চৌধুরীর ছেলে তাইমুন উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান এবং চেয়রম্যানের রায়পত্র উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘এই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, যা দখলে নিতে গিয়ে পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের প্রভাব ও ভয়ভীতির মুখে ছিলাম। সম্প্রতি জমিটি ঘেরা দেয়ার পরেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার শুরু হয়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম আজাদ বলেন, ‘বিএনপি নেতা মাহফুজ উদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে আমার জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এ ব্যাপারে ভূমি আইনে আদালতে আমি মামলা করেছি এবং বিএনপির উর্ধ্বতন নেতাদেরও অভিহিত করেছি। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।’