রাঙ্গামাটিতে টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি, কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একইসাথে পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ি উপজেলায় দু’টি স্কুল, বাড়িঘর ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

রোববার (১ জুন) রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়ক বিভাগের কর্মীরা রাস্তায় পাহাড়ের ভেঙে পরা মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

গত কয়েকদিনে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙ্গামাটি শহরের দু’টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪১ জন আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ির মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জুরাছড়ির জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

জুরাছড়ি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রূপময় চাকমা জানান, ‘গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে।’

বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতে জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে বসতঘর প্লাবিত এবং ফসলি জমিসহ বিভিন্ন শাক-সবজি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান, ‘রাঙ্গামাটি পৌর শহরে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণকে দু’টি আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র লোকনাথ মন্দিরে ২০টি পরিবারের ৮২ জন আশ্রিত রয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ পরিবারের ৪৫ জন আশ্রিত রয়েছে। দু’টি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ১২৭ জনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা এর জন্য স্যালাইন, প্যারাসিটামল, ফ্লাজিল সরবরাহ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্ল্যাহ জানান, রাঙ্গামাটিতে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে যাতে কোনো প্রকার প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রতিটি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের রেসকিউটি টিমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করবে।