রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর নাম সরাতে পুলিশের নামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অমিত বণিক গ্রেফতার হন। তাকে আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-১-এর বিচারক সোয়েবুর রহমান এ আদেশ দেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালতের ইন্সপেক্টর জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে আদালতে তোলেন। তিনি অমিত বণিককে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত রিকশাচালক সাঈদ হত্যাচেষ্টা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অমিত বণিকের জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ২৭ মার্চ শ্যোন অ্যারেস্ট শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) একই আদালতের বিচারক আবেদনের প্রেক্ষিতে (২৫ মার্চ) জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। এই মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। বুধবার (১৯ মার্চ) ২ দিনের রিমান্ড শেষে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল একই আদালত। এর আগে একই আদালত ১৭ মার্চ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থ জোগান দেয়াসহ, পুলিশ প্রশাসনের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে ১৩ মার্চ অমিত বণিককে গ্রেফতার করে মহানগর ‍পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলার ১৭৯ নম্বর আসামি সংরক্ষিত মহিলা এমপি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন উত্তোলনকারী সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিপি খান ভরসাকে মামলা থেকে নাম বাদ দেয়া এবং সুরক্ষার জন্য পুলিশের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ শিবলী কায়সারের নামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা করেন পলাশ হাসান নামের এক ব্যক্তি। এ সময় বাদি পলাশ হাসানকে থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী কায়সার মারধর ও পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিয়ে গুলি করতে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এরপর পুলিশের সদর দফতর থেকে শনিবার (১৫ মার্চ) এক আদেশে উপ-পুলিশ কমিশনার শিবলীকে রংপুর মহানগর থেকে প্রত্যাহার করে সদর দফতরে নেয়া হয়। অন্যদিকে রোববার (১৬ মার্চ) ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয় লিপি খান ভরসাকে। তাকে রাতেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অমিত বণিক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক। ২০১৮ সালে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে সফরে গিয়েছিলেন অমিত বণিক। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আদালতে মামলার তদবির, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দহরম-মহরম সম্পর্ক গড়ে তুলে তদবির, হুন্ডি ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

অমিত বণিক আওয়ামী লীগ আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে বিশেষ বিবেচনায় এনপিপি পিস্তল ও শর্টগান আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের কপিটি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে অমিত বণিক নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করে লেখেন, ‘আমি রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম,নীলফামারী জেলায় বহুজাতিক মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি, বহুজাতিক মোবাইল সেবা ফাইন্যান্স সার্ভিস, ঢেউটিন এলপি গ্যাসসহ একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছি। ব্যবসা ছাড়াও রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান পরিচালক, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদকসহ একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান-বিডার সদস্য, ভোক্তা অধিকার-এর সদস্য, লায়ন্স ক্লাবের পরিচালক, মানবতার বন্ধন ও রংপুর মহানগর কমিউনিটি পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য।’

ওই আবেদনে অমিত বণিক আরো দাবি করেন, ‘আমি ও আমার পরিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতাদর্শী। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ব্যবসায়িক সফর সঙ্গী এবং কর অঞ্চল-১৬ (বদরগঞ্জ)-এর শ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবে দাবি করে এনপিবি পিস্তল ও শর্টগান ব্যবহারের বিশেষ বিবেচনায় লাইসেন্স আদেশ প্রদান করা হোক।’

তবে ওই আবেদনের প্রেক্ষাপটে কি আদেশ জারি হয়েছে তা জানা যায়নি।