বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ অর্থ ছাড় দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত ১৬ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুকূলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে মূলধন ব্যয় খাতের ‘ভূমি অধিগ্রহণ’ বাবদ অর্থ অবমুক্তকরণ হলো।

তবে প্রকল্প অনুমোদনের ৬ বছর পর এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, বগুড়া অংশে ভূমি অধিগ্রহণে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মিলেছে ৯০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৮৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ (ব্রড গেজ ও মিটার গেজ) নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। বগুড়া জেলার সীমানায় অধিগ্রহণ করা হচ্ছে ৪৭৯ দশমিক ১৫ একর এবং বাকি ৪২০ দশমিক ৬৮ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে সিরাজগঞ্জ জেলায়। ভূমি অধিগ্রহণ খাতের ব্যয় হিসেবে প্রকল্পে ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।

জানা যায়, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ না থাকায় এ অঞ্চলের ট্রেনগুলো যেন বগুড়া স্টেশনকে এড়িয়ে সরাসরি চলাচল করতে পারে সেজন্য কাহালু-রানীরহাট রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে যেতে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। বাড়তি পথ ঘুরতে সময়ের সাথে বাড়তি ভাড়াও গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বগুড়া থেকে যেখানে সড়কপথে ঢাকা পৌঁছাতে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে ট্রেনে যেতে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই জেলার মধ্যে দূরত্ব ৭২ কিলোমিটার। নতুন রেলপথ চালু হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় ঋণের অর্থে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরমধ্যে ভারতীয় লোন ৩ হাজার ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থ।

শুরুতে প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগ এবং নকশা চূড়ান্ত করা নিয়ে বিলম্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার পর ২০২৩ সালের ৩০ জুন চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল গেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার একটি হলো- বগুড়ার ছোট বেলাইল এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭৩ কিলোমিটার এবং অপরটি বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রানীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার।

এদিকে দুটি রেলপথ মিলিত হওয়ার কারণে বগুড়া শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রানীরহাটে একটি জংশন এবং সিরাজগঞ্জে আরেকটি জংশন হবে। এছাড়া নতুন রেলপথের জন্য দুই জেলায় মোট ছয়টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। স্টেশনগুলো হলো- শাজাহানপুরের আড়িয়া বাজার, শেরপুর উপজেলার শেরপুর, ছোনকা বাজার ও চান্দাইকোনা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও কৃষ্ণদিয়া।

এদিকে সরকারি একটি সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পতনের পর ভারতীয় অর্থায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে সরকার নতুন দাতার খোঁজ করেন। সেই ক্ষেত্রে জাপানের জাইকা এ প্রকল্পে অর্থ যোগান দিতে পারে।