ফেনী সরকারি কলেজের চার শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার দুপুরে কলেজ আঙ্গিনায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা তালা খুলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা ‘হয়রানিমূলক বদলি বাতিল করো’, ‘আমাদের শিক্ষক আমাদেরই থাকুক’- এমন নানা স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস। মিছিলটি প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে চার শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে শ্রেণিকার্যক্রম বয়কটসহ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভবনের পরীক্ষার্থীরা জড়ো হলে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আইউবের নেতৃত্বে তালা খুলে দেয়া হয়। তিনি জানান, ‘অধ্যক্ষ বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। বিষয়টি তাকে অবগত করা হবে।’

দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত আক্তার মিম বলেন, ‘কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই আমরা শুনতে পাই আমাদের বিভাগীয় প্রধান হানিফ স্যারসহ চারজন স্যারকে বদলি করা হয়েছে। স্যারেরা এ বিষয়ে জানতেন না। এটা ষড়যন্ত্র। আমাদের এমনিতেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিভাগীয় প্রধান নেই। এর মধ্যে হঠাৎ বদলি করাটা আমরা মেনে নেব না।’

শিক্ষার্থী ইমন দাস বলেন, ‘শাস্তিমূলকভাবে আমাদের চারজন স্যারকে কোনো রকম না জানিয়ে বদলি করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁদের ফেনী কলেজেই রাখা হোক।’

জান্নাতুল নাইম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোনো রকম আগাম বার্তা ছাড়াই আমাদের স্যারদের বদলি করা হয়েছে। আমরা চাই, তাদের ফেনী কলেজেই পুনর্বহাল করা হোক।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চার শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বদলিকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দর্শনের সহকারী অধ্যাপক হানিফ মিয়া (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট), উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমদ আলী (কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ), অর্থনীতির প্রভাষক ইশতিয়াক উদ্দিন (মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাষক মনজুরুল হাসান (বাউফল সরকারি কলেজ, পটুয়াখালী)। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।