মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জুলাই মাসের গণআন্দোলনে আহতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদান পেয়েছেন হত্যাচেষ্টা মামলার এক আসামি। বাদল বেপারী নামের ওই আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাকে ‘আহত’ হিসেবে অনুদানের চেক প্রদানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) গজারিয়া উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনুদানপ্রাপ্ত বাদল বেপারী গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে। তার কোনো দলীয় পদ-পদবী না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাদল বেপারী মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। তার ছেলে শাওনকে সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খবর এবং অনুদান গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রকৃত আহতদের বঞ্চিত করে একজন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে কিভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা অনুদান দিচ্ছেন ভালো কথা, কিন্তু এই টাকা কার হাতে তুলে দিলেন? প্রকৃত আহত ব্যক্তিরা অনুদান না পাওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।’

জহিরুল ইসলাম নামে আরেকজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বলেন, ‘সে কিভাবে টাকা পায়? সে কোথায় আন্দোলন করেছে? কারা তার নাম দিয়েছে, সবকিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাদল বেপারীর বক্তব্য জানার জন্য তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, ‘এমন তো হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবো। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। যদি ঘটনা এরকমই ঘটে আপনারা রিপোর্ট করেন।’

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, তালিকা প্রণয়নের কাজে তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না, শুধুমাত্র তালিকা অনুযায়ী অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তালিকায় নাম থাকা কারো ব্যাপারে যদি আপত্তি থাকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। আপাতত চেকটি যাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পাশ না করে, সে বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়, তারপরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিচ্ছি।’

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে।