দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উত্তরের পাঁচ জেলা নিয়ে ‘বগুড়া’ নামে একটি নতুন বিভাগ গঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তরের প্রবেশদ্বার বগুড়া জেলা ও তার পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা- এই পাঁচ জেলার তিনজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বগুড়াকে পৃথক বিভাগ করার প্রস্তাবনায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
গত ২৫ জুলাই বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মমইন-এ আয়োজিত এক সেমিনারে বগুড়া, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বগুড়াকে বিভাগ করার জন্য তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাদের এই সমর্থনের ফলে বগুড়া বিভাগ গঠন করতে নতুন করে আর সমর্থনের প্রয়োজন হচ্ছে না।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এ পাঁচ জেলার মানুষের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও সাড়া পড়ে। তবে সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
একই দিন রাতে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় বগুড়া বিভাগ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘পাঁচ জেলার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বগুড়াসহ গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলার তিনজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বগুড়া বিভাগ গঠনে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছেন।’
সেমিনারে সিরাজগঞ্জ সদরের এমপি এবং বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, বগুড়া-২ আসনের এমপি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১০ জনের অধিক এমপি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট ও বরিশালের মতো বিভাগ থাকতে পারে, তবে উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে বগুড়া অবশ্যই একটা বিভাগ হতে পারে।’
বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী চার জেলার সংসদ সদস্যরা কোনো আপত্তি ছাড়াই স্বেচ্ছায় সমর্থন দেয়ায় এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ওই সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু বগুড়ার গাবতলী-সারিয়াকান্দি-জামালপুরের মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ঢাকার সাথে সময় ও অর্থনৈতিক দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শহরের মধ্য দিয়ে চলা রেললাইনের যানজট নিরসনে নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।’
এদিকে, বহুল প্রত্যাশিত বগুড়া বিভাগ গঠনের খবরে ওই পাঁচ জেলার মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বগুড়া বিভাগ গঠন করে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ময়মনসিংহ, রংপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা বিভাগ করা হলেও বগুড়ার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার।
উল্লেখ্য, বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা রংপুর বিভাগ এবং বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলা রাজশাহী বিভাগের অধীনে রয়েছে। বহু আগে গঠিত রাজশাহী বিভাগীয় সদর পদ্মা নদীর তীরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিভাগের অন্যান্যের জেলাবাসীকে সড়ক ও রেল যোগাযোগে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হতো।