রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেনু উৎপাদন ও পোনা মাছ অবমুক্ত কার্যক্রম শুরু করেছ বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশেন (বিএফডিসি)। তবে হ্রদের নদী-খাল-বিলগুলোতে পলি জমে প্রজননক্ষেত্র সঙ্কুচিত হওয়ায় হ্রদের সম্ভাবনা অনেকটা হুমকির মুখে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাপ্তাই হ্রদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেয়া প্রয়োজন। টেকসই ব্যবস্থাপনা না থাকলে মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা হারিয়ে যাবে।

কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন, আহরণ ও বাজারজাতকরণের দায়িত্ব বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশেন বিএফডিসির ওপর। প্রতিবছর বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদে মা মাছ প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়লেও পলিভরাটের কারণে কাপ্তাই হ্রদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, সঙ্কুচিত হচ্ছে মাছের প্রজননক্ষেত্র। ফলে হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, কমছে মাছের উৎপাদন।

এ অবস্থায় হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২০১৭ সাল থেকে লংগদুর মারিশ্যাচর হ্যাচারিতে রেনু উৎপাদন ও স্থানীয় পুকুরে পোনা প্রতিপালন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিএফডিসি।

এছাড়া চট্টগ্রামের হালদা নদী ও কাপ্তাই হ্রদের রুইজাতীয় মা মাছ এনে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে হ্যাচারিতে রেনু উৎপাদন করে মাছের পোনা প্রতিপালন করা হচ্ছে স্থানীয় পুকুরে।

হ্যাচারির কর্মীদের মতে, রেনুগুলোকে সাইফনিং পদ্ধতিতে হ্যাচিং জার থেকে নামিয়ে ঘূর্ণায়মান পানিতে রাখা হয়। এরপর ডিমের কুসুম, সিভিট, ওরস্যালাইন খাওয়ানোর পর এক দিনের মধ্যে পুকুরে ছাড়া হয়।

বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ফিশ কালচারিস্ট মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ইনব্রিডিং মুক্ত, দ্রুততম সময়ে বর্ধনশীল এবং রোগপ্রতিরোধী রেনু উৎপাদন করতে। তবে পুকুরের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন সীমিত।’

বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ম্যানেজার মো: ফয়েজ আল করিম জানান, ‘কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিএফডিসির পোনা অবমুক্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিএফডিসির হ্যাচারিতে রেনু উৎপাদন চলছে। তবে পোনা প্রতিপালনে পুকুর সঙ্কটের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা সময় লাগছে।’

তিনি জানান, চলতি বছর কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় পোনা মাছ অবমুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে ১০০ মেট্রিক টন পোনা উৎপাদন ও অবমুক্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদে ১ মে থেকে তিন মাসব্যাপী মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য কার্পজাতীয় মাছ সংরক্ষণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বিএফডিসি। এই সময়ে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন এবং বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও কাপ্তাই হ্রদের নদী-খাল-বিলগুলো পলিতে ভরাট হয়ে প্রজননক্ষেত্র হারাচ্ছে।

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি হ্রদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে কাপ্তাই হ্রদের মাছ উৎপাদন ক্ষমতা আগামীতে মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।