কৃষকের ধান সিন্ডিকেট করে বিক্রি হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে মন্তব্য করে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়ে সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। আগে এই সরকার ছিল না, আমি ছিলাম না। গত আমন মৌসুমে সিন্ডিকেট ছিল না, মিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চাল দিয়েছেন। কৃষকের স্বার্থে বিগত বছরের চেয়ে কেজিতে চার টাকা বেশি দামে ধান-চাল ক্রয় করছে সরকার। সরকারের বেশি দামে কেনার কারণে বাজারে চালের দাম কিছুটা বাড়বে। এই বৃদ্ধিকে মানুষ যাতে সহজভাবে নেয় সে ব্যাপারে তাদেরকে বুঝাতে হবে। কারণ কৃষক যে পরিমাণ পরিশ্রম করে ফসল ফলায়, তাকে যদি আমরা উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারি, তাহলে দেশের কিছুই হবে না।’
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় ধান চাল সংগ্রহের পরিমাণও আমরা বাড়িয়েছি। কারণ ঘটতি মেটাতে আমাদেরকে খাদ্যশস্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়ে। আমরা যদি কৃষক পর্যায় থেকে বেশি করে সংগ্রহ করতে পারি তবে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এবারও আশা করছি, বোরো মৌসুমেও কোনো সিন্ডিকেট হবে না, যদি হয় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এর আগে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন উপদেষ্টা। এ সময় কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চান তিনি। পরে হাওরে ধান কাটা পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন কবীর, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলার ভাটি উপজেলা জামালগঞ্জেও ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: গোলাম আম্বিয়া, উপজেলা বিএনপি নেতা এমদাদুল হক আফিন্দী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাব্বির সারোয়ার, অসিএলএসডি বিউটন চক্রবর্তী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রূপক রঞ্জন তালুকদারসহ স্থানীয় কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ জানান, ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ধান ক্রয় চলবে। একজন কৃষক তার কৃষি কার্ডে সর্বোচ্চ ৩৮ মণ ও সর্বনিম্ন ১২০ কেজি ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের কৃষকদের অ্যাপসের পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকেও তালিকাভুক্ত কৃষকদের আগে আসার ভিত্তিতে ধান সংগ্রহের কথা জানান খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।