বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নববিবাহিত কিশোরী আপন বোনকে দুই মাস ধরে পাশবিক নির্যাতনের (ধর্ষণ) অভিযোগে সুজন মণ্ডল (২২) নামে ভুক্তভোগীর বড় ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরের পর ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার সুজন মণ্ডল উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া আশ্রায়ন পল্লীর রঞ্জু মণ্ডলের ছেলে।

এর আগে মায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে বুধবার রাতে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

মামলাসূত্রে জানা যায়, সুজনের বাবা রঞ্জু মণ্ডল প্রায় ১৩ বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে সুজন তার মা ও ছোট বোনকে (১৫) নিয়ে চুনিয়াপাড়া আশ্রয়ন পল্লীর সরকারি ঘরে বসবাস করে আসছেন। সুজন মণ্ডল তার মা, বোন ও বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে প্রতিদিন একই ঘরে ঘুমায়। এ অবস্থায় প্রায় চার মাস আগে সুজন মণ্ডল তার বোনকে পাশের গ্রামে বিয়ে দেয়। কিন্তু স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে ভুক্তভোগী মেয়েটি চুনিয়াপাড়ায় ভাইয়ের বাড়িতে ফিরে আসে। সেই থেকে ভাইয়ের বাড়িতেই অবস্থান করছেন মেয়েটি।

এদিকে জীবিকার তাগিদে মেয়েটির মা শেরপুর উপজেলা শহরের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে শেরপুর শহরে অবস্থান করেন। আর সুজন তার বোন ও নানিকে নিয়ে চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। প্রতিরাতে একই বিছানায় ঘুমানোর সুযোগে প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপন বোনকে ধর্ষণ করে সুজন মণ্ডল। কিন্তু মেয়েটি ধর্ষণের বিষয়টি তার মাকে বলে বিশ্বাস করাতে পারেনি। এ অবস্থায় ১৮ মার্চ সকাল ১০টায় সুজন তার ছোট বোনকে একই কৌশলে ধর্ষণ করে। বড় ভাইয়ের যৌন নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটি পাশের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে সুজনের মা বাদি হয়ে একমাত্র ছেলে সুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মণ্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য বগুড়া আদালতে এবং শারীরিক পরীক্ষা ও ডিএনএ টেস্টের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।