নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী রেশমা বেগম সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে, গত বুধবার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর হোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণলংকারসহ কোটি টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগে ভুক্তভোগী রেশমা বেগম উল্লেখ করেন, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য, মরহুম নাসির উদ্দিনের চর হোগলার বাড়িতে বুধবার (৭ মে) রাত ৮টার দিকে একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মোতালেব মেম্বার ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত প্রধানের নেতৃত্বে ফারুক, বাবু গাজী ও শহীদ মিয়াসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা গত কয়েকদিন ধরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রেশমা বেগম ও তার ছেলে রাসেল উদ্দিনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে হামলাকারীরা নাসির মেম্বারের বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙ্গে কেয়ারটেকার আব্দুর রহমানকে মারধর করে ঘরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ করে। এ সময় হামলাকারীরা ছয়টি এসি, দু’টি ফ্রিজ, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং আলমারিতে রাখা প্রায় ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা নাসির মেম্বারের পার্শ্ববর্তী সোহেল মিয়া, মুকুল মিয়া ও শামিম আহম্মেদ স্বপনের বাড়িঘরেও হামলা ও ভাঙচুর করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও তার ছেলে শাহাদাত প্রধান বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করছেন এবং মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলেই বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। গত বুধবার রাতে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তারা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

ভুক্তভোগী রেশমা আক্তার আরো জানান, অভিযুক্তরা হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি। হামলাকারী ফারুক অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিমের আশ্রয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। অভিযুক্ত শাহাদাতের বিরুদ্ধেও একাধিক চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলা রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় ওই বাহিনী তার বাড়িতে হামলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত প্রধান জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুন্সিগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন করায় তাদের কর্মীরা ধাওয়া করেছিল। তিনি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ৫ আগস্টের পরের দিন ঘটেছে বলে দাবি করেন, সাম্প্রতিক নয়। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।