যশোর থেকে একমাস আগে অপহৃত ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামকে সাতক্ষীরায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে আটক সবুজ ও রিপন।
জমি বিক্রির ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী রেজাউলকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুড়িকাউনিয়ায় গুম করা হয়েছে বলে আটক দু’জন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। রেজাউল নিখোঁজের এক মাস তিনদিন পর মামলা করেছেন রেজাউলের স্ত্রী মমতাজ বেগম।
মামলার পর সবুজকে চট্টগ্রাম থেকে এবং রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে এনে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। জমি বিক্রির ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের লক্ষ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আটকরা পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য সাতক্ষীরায় রওয়ানা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের বাড়ি যশোর শহরের ইসহক সড়কে। তিনি ওই এলাকার দুলালের মোড়ের কামরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই বাড়ির আরেক ফ্ল্যাটে থাকতেন সবুজ ওরফে রবিউল। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তালতলা গ্রামের হবি গাজীর ছেলে।
রেজাউল ও সবুজ বাড়ি মালিকের পৃথক দু’টি ঘর ভাড়া নিয়ে পৃথক ব্যবসা করতেন। একই বাড়িতে থাকা এবং পাশাপাশি ব্যবসা করার কারণে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, সবুজের সাথে চোরাচালানের সূত্র ধরে সখ্য ছিল বেনাপোলের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে রিপন হাওলাদারের।
পরিবারের অভিযোগ, রেজাউল পৈত্রিক সূত্রে দু’শতক জমি পেয়েছেন। তার ওপর একটি বাড়িও আছে। সবুজ ও রিপন ব্যবসার মাধ্যমে বিশাল আয়ের লোভ দেখিয়ে রেজাউলকে বাড়ি বিক্রি করান। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তারা ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রেজাউলকে দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে দেন।
জমি বিক্রির সেই টাকা দেয়ার কথা বলে গত ২২ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় সবুজ রেজাউলকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। তারপর থেকে রেজাউলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দু’একদিন পর থেকে সবুজও নিজের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে উধাও হয়ে যান।
নিখোঁজ রেজাউলের আত্মীয় মতিয়ার রহমান জানান, প্রথম থেকেই সবুজকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। পরে জানা যায় তার সাথে রিপনও জড়িত। কিন্তু, রিপন সরাসরি রেজাউলের সাথে কোনো আলোচনায় যুক্ত ছিল না বলে তাকে ঠিকভাবে ধরা যাচ্ছিল না। তবে, সবুজ এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তার বাড়ি আশাশুনি পর্যন্ত যায় পুলিশ। সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। আবার তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। সে কারণে সবুজের জড়িত থাকার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ নিখোঁজ রেজাউলের লাশ উত্তোলনের জন্য রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুড়িকাউনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।