বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি বলেছেন, শেখ হাসিনার অত্যাচার-নির্যাতন পাকবাহিনীকেও হার মানিয়েছে। এ দেশের মাটিতে ওই খুনীরা আর আসতে পারবেন না। মহান রাব্বুল আলামীন ফেরাউনকে রক্ষা করেননি।

তিনি আরো বলেন, আমিও যদি কোন অপরাধের সাথে জড়িত হই, সেটাও নিউজ করে দিবেন। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোন অপকর্ম চলবে না। কাউকে করতে দেয়া হবে না। বিগত ১৭ বছরের অপকর্মের কারণে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং আমরাও যদি কোন অপরাধের সাথে জড়িত হই তাহলে এ দেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।

আজ শনিবার দুপুরে শহরের ডাক্তার পাড়ায় পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রাথমিক সদস্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমার বাড়ি-ঘর ও গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়ি ঘরে থাকতে দেয়নি। তবুও আপস করিনি। যারা বিগত সময়ে সুবিধার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে গা মিশিয়ে ছিলেন কন্টেকটারি করার জন্য, তাদের থেকে সাবধান। তারা যেন বিএনপিতে ঢুকতে না পারে।

সভায় বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব বলেছেন, অত্যাসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে সবোর্চ্চ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। সেই জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মানুষের মাঝে বিএনপির ভালো কাজগুলো তুলে ধরতে হবে। অন্যদিকে যারা অতীতে অপকর্ম করেছে তাদের সেগুলো মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। আর যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সেটা বুঝিয়ে বলতে হবে। তারা যে ৯৬ সালে গণতন্ত্র ধ্বংস করে নৌকায় উঠেছে সেটা মানুষকে বলতে হবে। এছাড়াও চলমান কর্মসূচি প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করতে হবে। তবে কোনো ফ্যাসিবাদ যেন যুক্ত হতে না পারে সেই দিকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা নিরাপদ থাকবেন, সেটা বুঝাতে হবে। এ পর্যন্ত চার হাজারেরও অধিক দুষ্কৃতকারীকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলালের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওসমান ফারুক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন স্বপনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জিপি নুরুল আমিন খান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও সদর উপজেলা সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার নাসির উদ্দিন, জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক উল্যাহ মুরাদ, সামাজিক উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হাসান বিপ্লব প্রমুখ। এ সময় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।