মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর সদরের সুপার মার্কেট থেকে মুক্তারপুর পাম্প সড়ক পর্যন্ত বেহাল দশা। লাখ লাখ লোক চলাচলকারী এ সড়কটি এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ যেন চরমে পৌঁছেছে।

জানা যায়, চারটি উপজেলা থেকে এ সড়কটি দিয়ে শহরে আসতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই পাম্পের সামনে থেকে দুর্গাবাড়ি পর্যন্ত পানিতে একাকার হয়ে থাকে। পানিতে হাবুডুব খেয়ে গাড়ি চালাতে হয় সবাইকে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

অপরদিকে মানিকপুর ফেমাস হাসপাতাল থেকে কাচারী পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কটিরও বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরে আছে সড়কটি। কিছুদিন আগে এ সড়কটি পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। যা কয়েক মাসের মধ্যেই পুরনো রূপে ফিরে গেছে। এখন সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলতে গেলে দেখা যায় কোনো গাড়িই তার লেন দিয়ে চলতে পারে না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন চলাচলরত ড্রাইভার ও যাত্রীরা।

রোববার (২৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পানিতে থৈ থৈ করছে পাম্পের পরের সড়কটি। মানিকপুর আলু গবেষণা কেন্দ্র থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট হয়ে সদর উপজেলার মহাকালি পর্যন্ত সড়কটি বেহাল দশায় জর্জরিত। ইজিবাইক, ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও ছোট পিকআপসহ সবধরনের যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি পথচারীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সড়কটি দিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা সেতুটির পাড়ের সংস্কার চেয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ একবার মেরামত কাজ শুরু করলেও তা আর এগোয়নি। ফলে সমস্যা দিন দিন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

গণকপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটিতে হাটু সমান পানি জমে থাকে। অপরদিকে আলু গবেষণা কেন্দ্র থেকে পুরো শহর জুড়েই সড়কটির বেহাল দশায় দিশেহারা রোগী নিয়ে আসা যাত্রীরা। এখানে একটি মোটরসাইকেল, অটো ও মিশুক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।’

এদিকে এ সড়কেই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল। চারটি উপজেলা ও মিরকাদিম পৌরসভা থেকে রোগী নিয়ে আসতে হয় এ হাসপাতালে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশায় রোগী নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। এতে করে চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা ও যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফলে আর্থিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক শামসুল হুদা হিটু বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ লাখো নারী-পুরুষ ব্যবহার করে। ভাঙা অংশ দিয়ে এখন চলাফেরা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, কয়েক মাস আগেই এ সড়কটি পুনঃসংস্কার হয়েছে। তবে বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশা। দ্রুত সড়কটি মেরামতের কাজ করা হবে।