যশোর সদর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২৬ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। তবে এ মৌসুমে বিএডিসির সরবরাহ করা ধানের বীজের প্রতি আগ্রহ কম কৃষকদের।

কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা না করে সরবরাহ করা অনেক জাতের বীজে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। পাশাপাশি এসব বীজের দামও তুলনামূলক বেশি। ফলে তারা নিজেদের সংরক্ষিত বীজ কিংবা রাজশাহী স্বর্ণা ও গুটি স্বর্ণা জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অনেক কৃষক তাদের নিজস্ব পছন্দের বীজ ব্যবহার করেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার আরবপুর, বসুন্দিয়া, চাঁচড়া, চুড়ামনকাটি, দেয়াড়া, ফতেপুর, হৈবতপুর, ইছালী, কাশিমপুর, কচুয়া, লেবুতলা, নরেন্দ্রপুর, নওয়াপাড়া, রামনগর ও উপশহর ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আমন চাষ করবেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাষাবাদে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলেও মনে করছেন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক শাহারুল বলেন, বিএডিসির বীজের দাম বেশি হওয়ায় তারা নিজেরাই আগের মৌসুম থেকে বীজ সংরক্ষণ করেন। এ বছরও তিনি নিজস্ব সংরক্ষিত রাজশাহী স্বর্ণা ও গুটি স্বর্ণা জাতের বীজ ব্যবহার করবেন।

কিছু কৃষক অভিযোগ করেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ নেই।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতিমা রাণী। তিনি বলেন, কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিএডিসির অনুমোদিত কয়েকজন ডিলার জানান, চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল ৫১, ৪৯, ১০৩, ৩০, ৭৫ ও ৮৯ জাতের বীজের বিক্রি খুবই কম। বেশির ভাগ কৃষক স্থানীয় জনপ্রিয় জাতের বীজ কিনছেন। ফলে গুদামে বিপুল পরিমাণ বীজ অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, বিক্রি না হওয়া বীজ পরে চাল তৈরি করে কিছুটা লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হয়। লাইসেন্স বজায় রাখার জন্যই বিএডিসির বীজ উত্তোলন করতে হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে যশোর বিএডিসির উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) কৃষিবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যে জাতের বীজ পাওয়া যায়, বিএডিসি তা বর্ধন ও বাজারজাত করে।