ঢাকার ধামরাইয়ে মাটির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাশেমকে প্রকাশ্য কুপিয়ে হত্যায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ মার্চ) গ্রেফতার ব্যক্তিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের আব্দুল জলিল (৫০), আব্দুল বাশেদ (৪৭), আবু সাইম (৪০), আব্দুল মালেক (৪৭), ও আলী হোসেন (৩৩)।
থানার এস আই মো: আতাউল মাহমুদ খান বাদি হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো চার থেকে পাঁচজনের নামে হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনার পরেই ধামরাই থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপি নেতা আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ধামরাইয়ে পৃথকস্থানে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ধামরাই পৌর শহরের যাত্রাবাড়ি মাঠে ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের নেতৃত্বে খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
অপরদিকে গাংগুটিয়া বালিয়া কুশুরা ইউনিয়নসহ অন্য এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাওয়ালীপাড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আবুল কাশেমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে পৌর শহরের প্রধান বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, খুনিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক সূত্রে আবুল কাশেমের সাথে আসামিদের বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নিহত আবুল কাশেম বাড়ি থেকে মানিকগঞ্জ চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে বাড়ির ১০০ শত গজ দূরে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে কাশেমের বাড়ির লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আহত আবুল কাশেমকে প্রথমে কাওয়ালীপাড়া কিউর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই এস এম কাওসার সুলতান জানান, ‘বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’