ফেনীর সোনাগাজী চরছান্দিয়া ইউনিয়নে সনাতনী হিন্দুধর্মালম্বী উত্তম কুমার দাসের জমি জবর দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা জাফর উল্লাহ নয়নের (৪৮) বিরুদ্ধে।

জাফর উল্লাহ নয়ন সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের বড় বাড়ির মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে ও ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উত্তম কুমার দাসের মালিকীয় জমি চরছান্দিয়া মৌজায় ২ দাগে ১৭ শতাংশ ও ৯ শতাংশ জায়গা দীর্ঘদিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জবর দখল করে রেখেছিলেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা নয়ন। তার ক্ষমতা আর প্রাণের ভয়ে পরিবারটি দীর্ঘ দিন মুখ খুলেননি।

গত ৫ আগস্টে পতিত সরকার পতনের পর উত্তম তার মালিকীয় জায়গা বুঝে নেয়ার জন্য জমিতে কাজ করতে গেলে নয়ন তাকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মেরে ফেলার আবারো হুমকি প্রদান করলে উত্তম কুমার সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘আমার বাবা পরলোকগত উষা রঞ্জন দাসের নামে এই জায়গা সিএস খতিয়ানে রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু নয়ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিএস রেকর্ডে তার নামে রেকর্ড করে ফেলে। যদিও তিনি কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেননি। জমির কাছে এলে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। মঙ্গলবার (১৩ মে) নয়ন ও তার ভাই আবদুল হালিম আমার ওপর দা ও ছুরি দিয়ে হামলা করে। আমি এর প্রতিকার চাই। তিনি যদি আমার বাবা থেকে জমি ক্রয় করে থাকেন তাহলে জমির দলিল দেখাতে বলে আসছি। কিন্তু তিনি দীর্ঘ দিন দলিল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

স্থানীয় মোমিনুল হক জানান, উত্তমের পৈত্রিক সম্পতি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে নয়ন। দলীর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে হুমকি ধমকি দিয়ে মানুষের জায়গা জমি জবর দখল করার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা জাফর উল্যাহ নয়ন জুলাই আন্দোলনে ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলায় কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েজিদ আকন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মূল আসামি জুলাই ছাত্র-জনতার ওপর হামলা-মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছে। তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।