‘শিক্ষাজীবন থেকেই সততার চর্চা শুরু হোক, ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যাই না কেন—সততা যেন আমাদের জীবনের মূল ভিত্তি হয়।’- এমন প্রত্যয় নিয়ে উখিয়ার আবুল কাশেম নূর জাহান চৌধুরী (একেএনসি) উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সততা স্টোর’।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্টোরটি উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী মানসিকতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অর্থায়নে ও দুর্নীতি দমন কমিশন কক্সবাজার’র অধীনে পরিচালিত সারাদেশের ন্যায় উখিয়া আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোর উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উখিয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মো: আব্দুর রহিম সততা স্টোরের কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদমান জামি চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন, শিক্ষিকা কাজী নিগার সোলতান, শিক্ষক নুরুল আবছার, আবু মোসা, রূপেন রায় চৌধুরী, আহমদ উল্লাহ, আবদুল খালেক, ফজলুল করিমসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদমান জামি চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সততার চর্চায় অভ্যস্ত করতে এই সততা স্টোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বই কিনতে হচ্ছে, এটাও এক ধরনের দুর্নীতি। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি নিজের জীবন থেকেই সততার চর্চা শুরু করতে হবে। শিক্ষাজীবন থেকেই সততার পথচলা শুরু হোক।

সভাপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘একদিন আমরাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমপি, মন্ত্রী কিংবা চেয়ারম্যান হবো। জীবনের যে অবস্থানেই আমরা যাই না কেন, যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন—সেখানেই যেন আমাদের সততা বজায় থাকে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে।’

সততা স্টোরের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার চর্চা গড়ে তোলা। কোনো বিক্রেতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবে, এমন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাস্তব জীবনে সততার অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষকরা মনে করছেন, শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় আরো সমৃদ্ধ করবে। আর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই ছোট্ট ‘সততা স্টোর’ থেকেই শুরু হবে বড় এক পরিবর্তনের পথচলা, যার প্রভাব পড়বে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে।