গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে জোড়া হত্যার ঘটনায় নিহত দুই শিশুর মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন নিহত দুই শিশুর বাবা আব্দুল বাতেন মিয়া।

মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩০), বড় মেয়ে বর্ষা আক্তার ফাতেমা (৯), ছোট মেয়ে মালিহা আক্তার (৬) ও এক ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরকে (৩) নিয়ে তিনি টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর জামাই বাজার রুপবানের মারটেক জনৈক সারোয়ার হোসেনের ৮তলা ‘সেতু বিল্ডিং’ এর ২য় তলার ৩/এ ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছেন। গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি গাড়ির কাজের জন্য বাসা হতে বের হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন সাহারা মার্কেট এলাকায় যান।

এর পরপরই বড় মেয়ে বর্ষা আক্তার ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়ে তার বড় চাচার বাসায় যায়। তখন তার স্ত্রী আলেয়া বেগম ও ছোট মেয়ে মালিহা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বাসায় ছিল। ওই দিন দুপুর অনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের পর হতে বিকেল পৌনে ৫টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা আসামি বা আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সবার অগোচরে তার বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট মেয়ে মালিহা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরকে গলাকাঁটাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতে হত্যা করে।

পরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা করে।

এদিকে এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং পারিবার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ, উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে বাদীর স্ত্রী আলেয়া বেগমকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হয়, বাদীর স্ত্রী আলেয়া বেগম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে হত্যার কারণ উদঘাটনে আরো গভীর তদন্তের প্রয়োজন। এছাড়াও আরো বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে।’