বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দমাতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি করার প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মশাল মিছিলের পর মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ ছিল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, চার দফা দাবিসহ শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তারা বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে নির্বিকার থাকায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে নামতে বাধ্য হয়েছে বলে জানায় তারা।

শিক্ষার্থীরা দু’ঘণ্টা কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়ক আটকে রাখলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কেউ শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তবে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এলে শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে কোনো আলোচনায় যায়নি। সড়কে প্রায় কয়েকশত শিক্ষার্থী জড়ো হন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে বারবার আলোচনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদ সাকিন তার বক্তব্যে বলেন, ভিসির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করে আসছি। তার বরাবর আমরা চার দফা দাবির স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু ভিসির এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত নেই। একজন ভিসি কীভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে? এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি, মহাসড়ক অবরোধে মানুষের ভোগান্তি হবে। কিন্তু আমরা সত্যিই অসহায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, ‘আপনি (ভিসি) এসির বাতাস খাচ্ছেন। আমরা সঙ্কটে ভুগছি। আপনাকে তো পাওয়া যায় না? আপনি মাসের পর মাস ঢাকায় থাকেন। সরকার কি লাখ লাখ টাকা দেয় পরিবারের সাথে কাটাতে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস জানুন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা কোনো আপস করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না। মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের লাভ নাই। আমাদের দাবি মেনে নিন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনিকে একাধিকবার কল করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে ভিসি ড. শূচিতা শরমিনকে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।