সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে অচিরেই সুলতানগঞ্জ নদীবন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি একথা জানান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নৌবন্দরের কার্যক্রম শুরু করার জন্য এনবিআরের অনুমোদনসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট প্রয়োজন। এই কার্যক্রমের সাথে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা জড়িত। তাই সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে অচিরেই নদীবন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে। সকালে সুলতানগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন উপদেষ্টা।
পদ্মা নদী দিয়ে ভারতের সাথে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুলতানগঞ্জ নদীবন্দরটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এর মাধ্যমে ভারতের মায়া নদীবন্দরের সাথে সুলতানগঞ্জের নতুন যোগাযোগ স্থাপিত হয়। কিন্তু পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পণ্য আনা-নেয়ার পর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নদীর নাব্যতা কম থাকাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। একইসাথে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। তবে পুরোপুরিভাবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর নির্মাণ এখনো হয়নি।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে নদীবন্দরটির সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা শোনেন। পরে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দিকে যেটুকু নদী আছে, এটা আমরা ড্রেজিং করতে পারব। ভারতের অংশে আমাদের পক্ষে ড্রেজিং করা সম্ভব না। আমাদের পাশে ভারত, তারা যদি না করে আমরা তাদের রিকোয়েস্ট (অনুরোধ) করতে পারব। পদ্মায় কখনো পানি বেশি থাকে, আবার কখনো কম থাকে। এ নিয়ে যৌথ আলোচনা হবে। ভারতও তো আগ্রহী যে তাদের পণ্য বিক্রি হবে। সে দেশের ব্যবসায়ীরাও নিশ্চয় তাদের সরকারকে নাব্যতার ব্যাপারে বলবেন।
এর আগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নৌবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। বিষয়টি পজেটিভলি আমি দেখব।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ প্রমুখ।