নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দফতরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালিত হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের’ আহ্বানে এই কর্মসূচি শুরু হয়। হরতালের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক, মিরসরাই-ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রাম-হেঁয়াকো সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরতাল সমর্থকরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো, বাগানবাজার, চিকনছড়া ও বালুটিলা এলাকার অন্তত ৩০-৩৫টি স্থানে বালুর ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে এবং বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন আন্দোলনকারীরা।

ঢাকা ও খাগড়াছড়ির সাথে চট্টগ্রামের সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড থাকায় সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতরটি বর্তমানে যেখানে (পশ্চিম ভূজপুর) নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বিদ্যমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ফলে উত্তর সীমান্ত এলাকার ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দাদের জন্য তা ভোগান্তিকর। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দফতর স্থাপনের জোর দাবি জানান তারা। একইসাথে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেন, ‘হরতালে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই নতুন উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সদর দফতরের অবস্থান নিয়ে উত্তপ্ত রয়েছে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চল। পূর্বে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হলেও দাবি আদায়ে এবারই প্রথম টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল পালন করছেন বিক্ষুব্ধরা।