বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রেখে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। আগামীকাল পরীক্ষা হওয়ায় এনিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছে পরীক্ষার্থীরা।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের বোর্ড ফি ১ হাজার ৭২৫ টাকা ও ব্যবহারিক কেন্দ্র ফি ৫২৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে বোর্ড ফি ১ হাজার ৬৩৫ টাকা ও ব্যবহারিক কেন্দ্র ফি ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অথচ ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণের সময় ২ হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

আরো জানা যায়, এখন আবারো প্রবেশপত্র ফি হিসেবে ৫০০-৬০০ টাকা এবং পাঁচ বিষয়ের তিন মাসের কোচিং ফি বাবদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে বোর্ডের বিধি অনুযায়ী প্রতি বিষয়ে মাসে ১৫০ টাকা আদায় করার বিধান রয়েছে।

জানা যায়, বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ওই স্কুলসহ মোট পাঁচটি বিদ্যালয়ের ২৫৬ জন ছাত্র-ছাত্রী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে।

এ কেন্দ্রের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলোর একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নকলের কৌশল অবলম্বন করেন কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করে থাকেন।

বিবিচিনি স্কুলের পরীক্ষার্থী রাহাত খান বলেন, ‘অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার কোচিং ফি বাবদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা ও প্রবেশপত্রের জন্য ৬৩০ টাকা নিয়েছে। তবে কোনো রশিদ দেননি। একই টাকা নিয়েছে বন্ধু জাহিদুল ইসলাম ও রহিমুলের কাছ থেকে।’

পরীক্ষার্থী মীম আক্তারের মা মোসা: ফাতেমা জানান, ‘ফরম পূরণের সময়ই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম বাড়ি থেকে অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে মেয়েকে ওই বিদ্যালয়ে কোচিং করাবো না। অথচ এখন আমার কাছ থেকে মেয়ের কোচিং ফি বাবদ দুই হাজার ৫০০ টাকা ও প্রবেশপত্র ফি বাবদ ৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গৃহপরিচারিকা ধর্ষণের অভিযোগে তিনি দু’বার বরখাস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিচিনি স্কুলের অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর আমার বিদ্যালয় থেকে ৭০ জন পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে এ কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে মোট ২৫৬ জন। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের এত অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফি -এর আয় দিয়ে কেন্দ্র খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে অতিরিক্ত কিছু টাকা আদায় করা হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভক্ষতির বিষয় নেই।’

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: বশির গাজী বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার হলে নকল প্রসঙ্গে এ ইউএনও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এ কেন্দ্রে কেমন পরীক্ষা হয়েছে, এটা ভেবে দেখার বিষয় নয়। এবছর এ কেন্দ্রে নকলের কোনো সুযোগ নেই। একইসাথে নকলের সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’