প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বগুড়া জেলা প্রশাসন। বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার ৪২টি মৌজার প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার বর্তমান আয়তন ঠিক রেখে রোববার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা।
এই আয়তনের মধ্যে ২১টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৯টি পূর্ণ ও একটি আংশিক ওয়ার্ড এবং শাজাহানপুর উপজেলার ১টি পূর্ণ ও অপর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা রয়েছে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই এলাকার জনসাধারণের কারো কোনো আপত্তি থাকলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জানাতে হবে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি নিষ্পত্তি করে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ শেষে নিকারের সভায় অনুমোদন হলে এটা হবে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন।
এর আগে গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন চেয়ে গত ১০ এপ্রিল বগুড়া জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর গত ১৫ দিন জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা দাপ্তরিক কাজ শেষে রোববার (২৭ এপ্রিল) গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উন্নয়নবঞ্চিত বগুড়াবাসীর আকাঙ্খা পূরণে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আলোচনার জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে প্রস্তাবনা পেশ করলে তা আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
বগুড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সর্বশেষ কাউন্সিলর অধ্যক্ষ এরশাদুল বারী এরশাদ বলেন, ৮নং ওয়ার্ডের আয়তন অপরিবির্তত রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরে আমরা খুশি। অবিলম্বে সিটি বাস্তবায়ন করা হোক। এতে নাগরিকরা আরো উন্নয়ন পাবেন।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলেন, পৌরসভার বর্তমান সীমানা ঠিক রেখে ওয়ার্ড ভিত্তিক মৌজা তালিকা তৈরি করে গণজ্ঞিপ্তি জারি করা হয়েছে। কোনো নাগরিকের আপত্তি থাকলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তা জানাতে হবে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করে প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বগুড়া পৌরসভা (তৎকালীন মিউনিসিপালিটি) ১৮৭৬ সালের ২ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮১ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পায়। এরপর ২০০০ সালে এর আয়তন দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার এবং সাধারণ ওয়ার্ড করা হয় ১২টি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে বর্ধিত করে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয় যার সাধারণ ওয়ার্ড করা হয় ২১টি।