পাহাড়ের ঢালে বাগানে বাগানে ঝুলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আম। কোনোটা সবুজ, কোনোটা হলুদ আবার লাল। কোনোটা আবার পেকে রসে টইটম্বুর। এসব আমের এক একটার নামও আলাদা। কোনোটার নাম ব্রুনাই কিং, চিংমে, কিউজাই, রেড পালমার, বেনানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত, জাম্বুরা আম। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন রকমের নাম।

দেখতে যেমন রঙ্গিন তেমনি খেতেও সুস্বাদু। এগুলোর পাশাপাশি রয়েছে দেশি জাতের আম্রপালি, বারি ৪, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা এবং পাশের মায়ানমার থেকে আসা রাঙ্গুয়াই। এসব আমের অধিকাংশই এখন বাজারে চলে এসেছে।

বান্দরবান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সারি সারি ফলের দোকানে বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন রঙের আম। এসব আমগুলোর মধ্যে ব্রুনাই কিং-এর সাইজ দেখে যে কারোর চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। এক একটি আমের ওজন দুই কেজি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজির মতো। কোনোটা লম্বায় প্রায় এক ফুটের কাছাকাছি। পাহাড়ের এসব জাতের আম দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। দামও অনেকটা হাতের নাগালে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিংমে আড়াইশো থেকে ৩০০ টাকা কেজি, ব্রুনাই কিং ২৫০, কিউজাই ১৫০, রেড পাল্মার ৩০০, কিং অব চাকাপাত ৩০০, ব্যানানা ম্যাংগো ১৫০, বারি-৪-৮০, আম্রপালি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রথমদিকে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই কমিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এসব আম বাগান থেকে বাজারে আবার সরাসরি চলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারগুলোতে। বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো: ইলিয়াস জানিয়েছেন বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন জাতের আমগুলো যখন সাজিয়ে রাখা হয় দোকানে তখন পর্যটকরা এসে বিভিন্ন কথা বলেন। আমের সাইজ নানা রং সেই সাথে আমের স্বাদ সবকিছু মিলিয়ে পর্যটক আর ক্রেতারা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনেক সময় এতো বড় আম দেখে আমরা নিজেরাও অবাক হয়ে পড়ি। গত কয়েক বছর আগেও বান্দরবানে তেমন একটা প্রস্তুতি ছিল না। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে বান্দরবানের পাহাড়ের মিশ্র ফলের বাগানগুলোতে দেশী আমের পাশাপাশি বিদেশী জাতের আমের চাষ হয়ে আসছে। পাহাড়ের আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতা বেশি হওয়ায় বাগানগুলো ফলনও দিন দিন বাড়ছে।

চুম্বক পাহাড়ের জুম চাষী তৈয় ম্রো জানান, ফলন ভালো হওয়ায় ও দাম ভালো পাওয়া যাওয়ায়। চাষীরা এখন মিশ্র ফলের বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সেই সাথে বাগান গলোতে দেশী আমের পাশাপাশি বিদেশী জাতের আমের ফলনও বাড়ছে। একজন থেকে দেখে অন্যজন বিদেশী আমের চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়া ব্যবসায়ীদের কারণে অনেক সময় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন বিদেশী আমগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি ঢাকা-চট্টগ্রামে। সেই সাথে বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা এসব আমে আকৃষ্ট হচ্ছেন। দেশী এবং বিদেশী সব জাতের আমগুলো উঠে যাওয়ার পর বাজারে আসতে শুরু করে পাশের মায়ানমারের টক মিষ্টি রাঙ্গুয়াই জাতের আম। ইতোমধ্যে বাজারগুলোতে সয়লাব হয়ে রয়েছে এসব আম।

কৃষি বিভাগ ও বাগান চাষীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে যেসব আমের চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে নতুন বিদেশী প্রজাতি চিংমে, রেড পালমার, ব্রুনাই কিং ও আম্রপালি। বৃহৎ সাইজ, নানা রঙের পাশাপাশি আমগুলো খেতেও খুব সুস্বাদু। দামও অনেকটা হাতের নাগালে। এ কারণে ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন পাহাড়ের তরতাজা ও কেমিক্যালবিহীন এসব আমে।

বান্দরবান কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এম এম শাহ্ নেয়াজ জানান, বান্দরবানের পাহাড়গুলোতে ১২টিরও বেশি প্রজাতির আম উৎপাদন হয়ে থাকে। ঝড় বৃষ্টি না হলে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের বিদেশী জাতের আমের চাষ বাড়ছে বান্দরবানে। সমতলে এসব আমের চাহিদা বেশি হওয়ায় চাষিরাও ক্রমাগত এসব আম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে নানা ধরনের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে চাষীদের।