গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী গাজীপুরা এলাকায় কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার সকালে স্যাটার্ন টেক্সটাইল লিমিটেড নামক কারখানার ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় হুমায়ুন কাজীর মালিকানাধীন ‘নূর এন্টারপ্রাইজ’ গত ১০ আগস্ট থেকে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে স্যাটার্ন টেক্সটাইল কারখানা থেকে ওয়েস্টেজ মালামাল (ঝুট) সংগ্রহ করে আসছিল। তবে সম্প্রতি স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নির্দেশনায় তার সমর্থক আল-মামুনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় কারখানার গেটে বেশ কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়।
এ বিষয়ে আল-মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণবিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এই কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন এবং ওই কারখানার ঝুটের টাকা দিয়ে নাশকতাসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বুধবার টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী মঞ্জুর নেতৃত্বে টঙ্গীতে সরকারবিরোধী একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়, যা এই কারখানার ঝুটের টাকায় আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি আরো দাবি করেন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কাজীর ভাই, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী নূর মোহাম্মদের স্ত্রীর নামে এক ব্যবসায়িক চুক্তিবলে কাজী মঞ্জুসহ আওয়ামী লীগ নেতারাই মূলত ঝুট নামাচ্ছিলেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর হুমায়ুন কাজীর নামে ব্যাকডেটে চুক্তি দেখিয়ে ঝুট নামানোর চেষ্টা চলছিল।
আল-মামুন জানান, তাদের প্রতিবাদ মিছিল কারখানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসকান্দার হাবিবুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।