মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী ও তালতলা-ডহুরি খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং ফসলি জমি ভরাটের অপরাধে ছয়জনকে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২০ আগস্ট) লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আব্দুল্লাহ আল ইমরান এ অভিযান পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মালেক (৩৫), নওপাড়া, নরিয়া, শরিয়তপুর- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড, মো: স্বপন (৪৬), কুড়িগাঁও, বেজগাঁও, লৌহজং- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, রাজিব মল্লিক (৩৫), বেজগাঁও, লৌহজং- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, মো: অপু ঢালী (২৫), কনকসার, লৌহজং- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, মো: নাজমুল শিকদার (২৭), কনকসার, লৌহজং- ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, রাহেন উদ্দিন (৩৫), মহাদেবপুর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ- দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড, অভিযানকালে পদ্মা নদী ও তালতলা-ডহুরি খাল থেকে একাধিক অবৈধ ড্রেজারও উদ্ধার করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। নদী ও ফসলি জমি বাঁচাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছরই এলাকাবাসী ভয়াবহ ভাঙন আতঙ্কে জীবনযাপন করেন। পদ্মার চর ও উর্বর ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিংয়ের ফলে শুধু নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে না, বরং সেতু, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে পড়ছে। এ ব্যবসার মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।