সিলেটে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করা যাবে কি না তা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নতুন জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি সুরমা-কুশিয়ারা নদী খনন নিয়েও কথা বলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের বার্নিং ইস্যুসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্যের জবাবে জানান, ‘পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করা যাবে কি না তা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে পাথর কোয়ারি এলাকায় শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে সরকার ভাবছে। পরিবেশ, প্রতিবেশ ঠিক রেখে তাদেরকে কিভাবে কাজ দেয়া যায় সেটা চিন্তা-ভাবনা চলছে।’
সুরমা ও কুশিয়ারা নদী খনন করা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কথা বলবেন।
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের সিলেট অংশে জমি অধিগ্রহণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা সম্পন্ন করে কাজ এগিয়ে নিতে তিনি তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিলেটের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও প্রবাসীবিষয়ক নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় তিনি অবহিত জানিয়ে বলেন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি কথা বলেন। জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে তাকে পরিকল্পনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এই হাসপাতালে ৯০০ বেড থাকলেও প্রতিদিন দুই-আড়াই হাজার রোগী ভর্তি হতে আসেন। ফলে এখানে সেবা সেরকম দেয়া সম্ভব হয় না।
শিক্ষায় সিলেটে নানা অনিয়ম রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বলে, কিন্তু শিক্ষার মান নিয়ে কেউ কথা বলে না।
তিনি স্বাস্থ্যখাতে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সেবা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি কাজ বলে মনে করেন।
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যের কিনব্রিজে এখন থেকে আর মোটরসাইকেলও চলাচল করতে দেয়া হবে না এবং দোকানপাট বসতে দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিনব্রিজে এখন শুধু মানুষ হাঁটবে। এর পাশে সার্কিট হাউসের সামনে ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। এই এলাকায় খাবারের দোকানপাট বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।’
জেলা প্রশাসক সুরমা ও কুশিয়ারা নদী খনন একেবারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে বলেন, নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জমা থাকা ফাইলের খোঁজ-খবর নিয়ে উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
এয়ারপোর্ট থেকে সিলেটের সড়ক চার লেন করা যায় কী না তারও চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান নতুন জেলা প্রশাসক। সিলেট-চারখাই শেওলা চার লেন মহাসড়কের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
নগরের ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে সবাই মিলে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ যানবাহনের বিষয়ে কাজ চলছে।
সাংবাদিকদের ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ ও কল্যাণকর দেশ গড়তে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, দেশের আমূল সংস্কার ও পরিবর্তনে মিডিয়া সবচেয়ে বড় শক্তি।
তাকে ‘কখনো কখনো বজ্রের মতো কঠিন-রূঢ় আবার কখনো ফুলের মতো কোমল’ দেখা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাউকে কাউকে এমন শাস্তি দেবো, মনে হবে বেশি করা হয়ে গেছে। কিন্তু সময়ে বুঝবেন এটা ঠিকই করেছি।’
তিনি তার আশপাশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘ঘুষ খাওয়া প্রমাণিত হলে
বরখাস্ত করবো। আর আমার মতো চলতে পারলে সারা জীবন মনে রাখবো। এখান থেকে চলে গেলেও তার জন্য কাজ করবো।’
সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সব সময় কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘মানুষের কাজ করে আমি এত বেশি ভালোবাসা পেয়েছি যে, আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি কিছু আর চাই না। এটা আমার প্রত্যাশারও অতীত।’
এর আগে সিলেটের কমপক্ষে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের সামনে সাংবাদিকরা কথা বলেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সময় টিভির বিশেষ সংবাদদাতা ইকরামুল কবির, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেটের ডাকের চিফ রিপোর্টার সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার, দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবির আহমদ সোহেল, দৈনিক সংগ্রামের সিলেট ব্যুরো চিফ কবির আহমদ, দৈনিক আমার দেশের সিলেট ব্যুরো চিফ খালেদ আহমদ, বাসসের সিলেট ব্যুরো চিফ সেলিম আউয়াল, সিলেট ফটোসাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল, চ্যানেল আইয়ের সিলেট প্রতিনিধি ও নবগঠিত সিমজা’র সভাপতি সাদিকুর রহমান সাকী, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও জালালাবাদের রিপোর্টার এম জে এইচ জামিল, দৈনিক আলোকিত সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গোলজার আহমদ হেলাল, দেশ টিভির সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ, দৈনিক দিনকালের সিলেট প্রতিনিধি সাইফুর রহমান তালুকদার, দৈনিক জালালাবাদের চিফ ফটোগ্রাফার হুমায়ুন কবির লিটন, মোহনা টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি আবদুল আউয়াল চৌধুরী শিপার, ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টিভির সিলেট প্রতিনিধি সাকিব আহমেদ মিটু, দৈনিক পূণ্যভূমি সম্পাদক
আবু তালেব মুরাদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।