ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার দাফতরিক কাজ শুরু করেছে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা এ ব্যাপারে এক চিঠিতে বগুড়া জেলার গেজেটভুক্ত মৌজাভিত্তিক জনসংখ্যার তথ্য ও জরিপ মানচিত্র দ্রুত পাঠানোর জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব ফিরোজ মাহমুদ।
চিঠিতে বলা হয়, ‘বগুড়া পৌর এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠনের লক্ষ্যে ‘সিটি করপোরেশন (প্রতিষ্ঠা) বিধিমালা, ২০২৩’-এর বিধি ৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য নির্ধারিত এলাকার অধিবাসীদের মতামত ও অন্যান্য তথ্যসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের অনুরোধ করা হলো।’
গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে আলোচনার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন। এরপর ওই বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মাসুম আলী বেগ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। দু’এক দিনের মধ্যে সংবাদপত্রে জনসাধারণের মতামত চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, বগুড়া বহু আগেই সিটি করপোরেশন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বগুড়ার কোনো ডিসিসহ সরকারি কোনো কর্মকর্তা এমন প্রস্তাব বিগত সরকারের কোনো পর্যায়ে করার সাহস করেননি। যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা অনুমোদন পেলে এটি হবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে খুশি পৌরবাসী। দেরিতে হলেও সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বগুড়াবাসী স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কার্যকরের অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা ১০ লাখ ও ভোটার তিন লাখের বেশি, আয়তন ৭০ বর্গকিলোমিটার এবং সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ২১টি। বিগত বিএনপি জোট সরকার ২০০৬ সালে ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ১৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বগুড়া পৌর এলাকা সম্প্রসারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালের ২ জুলাই বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। চলতি অর্থবছরে পৌর সভার বাজেট ২৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।