ঢাকার আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম এলাকায় রুবেল মণ্ডলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত আমজাদ মণ্ডল (৪৫) এবং তার সহযোগী জুয়েল মাদবরকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

শুক্রবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর জালিস মাহামুদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আমজাদ মণ্ডল আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম এলাকার আশরাফ আলী মণ্ডলের ছেলে এবং জুয়েল মাদবর একই এলাকার সেরাজ উদ্দিন মাদবরের ছেলে।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র‌্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, আশুলিয়ায় রুবেল মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে আমজাদ ও জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত রুবেল মণ্ডল আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার নায়েব আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাছের ঘের, ঝুট ও বালুর ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। বেশ কিছুদিন ধরেই আমজাদ মণ্ডল ও তার সহযোগীদের সাথে রুবেলের মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই গত বুধবার (৭ মে) সকালে রুবেল মণ্ডলকে মীমাংসার কথা বলে পাড়াগ্রামের একটি অফিসে ডেকে নেয়া হয়। পরবর্তীতে একই দিনে রুবেলের নিজ মাছের ঘেরের পাড়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে আশুলিয়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।