গ্রামীণ পাকাসড়কের পাশে ঝোঁপঝাড় আর বিশালাকৃতির ডোবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা বিশিষ্ট একটি সুরম্য ভবন। এটি দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মধ্যম জয়নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের অভাবে বিদ্যালয়টির নিয়মিত অ্যাসেম্বলি হয় ছাদে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে মাত্র তিন ফুট জায়গা ছাড়া অতিরিক্ত এক ইঞ্চিও খালি নেই। ১৯৭৩ সালে স্থানীয় কিছু দানশীল ব্যক্তি ৯ শতক জায়গায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ হয়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নতুন ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রতিদিন ৯০ শতাংশের বেশি উপস্থিতি থাকে। নিয়মিত খেলাধুলা হয় না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে ছাদে অ্যাসেম্বলি করান শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ জানান, ২০১৮ সালে তিনি যোগদান করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র নাথ বদলি হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান। এরপর বিভিন্ন সময়ে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো সুফল মেলেনি।
তিনি বলেন, ‘অন্যের জমিতে দায়সারাভাবে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করতে হয়। মাঠের অভাবে সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাঠের সমস্যা সমাধান হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।’
সহকারী শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, ‘মাঠ না থাকায় অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা করাতে সমস্যা হয়। ছেলে-মেয়েরা হীনমন্যতায় ভোগে, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুলের সামনে ফাঁকা জমি রয়েছে। সরকারি অথবা স্থানীয় উদ্যোগে স্কুলকে এ জমি দান করা হলে ভালো হতো।’
স্কুলের সাবেক ছাত্রী ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের গাইনী কনসালটেন্ট ডা. কামরুন নাহার রলী বলেন, ‘গ্রামে সুন্দর স্কুল থাকলেও ভালো ছাত্রদের ভর্তি করানো হয় না। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে মাঠ খুবই জরুরি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘মাঠ না থাকা স্কুলগুলোর জন্য একসময় সরকারের জায়গা কেনার উদ্যোগ ছিল, এখন সে রকম কিছু দেখছি না। এলাকার দানশীল মানুষ আশপাশে জায়গা দিতে পারে।’