ফেনী অফিস ও ফুলগাজী সংবাদদাতা

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একইসাথে টাকার বানানও পরিবর্তন করা হয়। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল এবং অফিস সহায়ক মো: ফিরোজ ও নূর ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। পরে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। এর আগে তিনি ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন একটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। মার্চ মাসে পার্থ সারথী পালের বদলির পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত বছরের মে মাসে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে সংঘটিত রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই আগুনের ঘটনার সাথে বর্তমান চেক জালিয়াতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের সমর পালের ছেলে। নূর ইসলাম ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো: ফিরোজ পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মিজানুর রহমান জানান, চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই অপরাধ স্বীকার করেছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাতে পাঠানো হয়েছে।