সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেটবাসী কোনোভাবেই আর মাহমুদুর রহমানকে হয়রানি সহ্য করবে না। অনতিবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে সিলেটের মাটি থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।’

শনিবার (২৬ এপিল) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল আমার দেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান সাধারণ কোনো ব্যক্তি নন তিনি আমাদের জাতির বিবেক, রোল মডেল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি রক্ত দিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশ যখন বিপন্ন তখন তিনি লেখনির মাধ্যমে অকুতোভয়ভাবে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।’

সিলেটে আয়োজিত মানববন্ধনে একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আমার দেশের মজলুম সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমানসহ পত্রিকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে উল্লেখ করেছেন বক্তারা।

হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, ‘সিলেটবাসীকে চিনতে যদি মেঘনা গ্রুপের মালিক ভুল করেন তাহলে সিলেট থেকে যে আন্দোলন শুরু হবে তা সামাল দেয়ার ক্ষমতা মেঘনা গ্রুপের থাকবে না। প্রয়োজনে মেঘনা গ্রুপকে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হবে। তাদের পণ্য বয়কট করে উপযুক্ত জবাব দেয় হবে।’

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল আমার দেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ক্যাম্পাস দুপুরে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বাদ যোহর বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধনস্থলে এসে তারা জড়ো হন।

আয়োজক সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল- আমার দেশ পাঠকমেলা সিলেট, সিলেট মহানগর সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও গ্লোবাল সিলটী আওয়াজ।

বিশাল এই মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, সাংবাদিক নেতারা, পেশাজীবী নেতারা, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, সংবাদপত্র হকার্স সমিতির সদস্য ও নেতারা এবং দৈনিক আমার দেশের পাঠক ও শুভাকাঙ্খীরা।

আমার দেশ পাঠকমেলা সিলেটের সভাপতি ডা: হোসাইন আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এম জে এইচ জামিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক আমার দেশের সিলেট ব্যুরো ও সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ।

মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, দৈনিক সিলেটের ডাকের প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, গ্লোবাল সিলেটী আওয়াজের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান, বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি ঈশা তালুকদার, মহানগর সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিজকিল গুলজার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আসলাম মোমিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, দৈনিক সংগ্রামের সিলেট ব্যুরো চীফ কবির আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাব্বির আহমদ, আল মদিনা মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মঈনুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, ভাটেরিয়ান সিলেটের সভাপতি মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ডেসটিনির সিলেট ব্যুরো আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ইয়াহিয়া, ডেইলি নিউ নেশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান এস এ শফি, দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনাস হাবিব কলিন্স, দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার মারুফ হাসান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর অন্বেষণ’র সভাপতি সাজন আহমদ সাজু, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুর আহমদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উইংয়ের সংগঠক শিব্বির আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইফতেখার আহমদ চৌধুরী নাবিল ও জুনেদ আহমদ চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ সিলেট ব্যুরো ফটোগ্রাফার এইচ এম শহীদুল ইসলাম, ওসমানীনগর প্রতিনিধি সাইফুর এম রেফুল, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল জলিল, ছাতক প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন, মহানগর বিএনপির সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সুমেল আল চৌধুরী, মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আফজল হোসেন, মহানগর সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সহ-সাধারণ সম্পাদক সেলিম খান, দফতর সম্পাদক হারুনুর রশীদ, সদস্য সুলেমান আহমদ, খোকন মিয়া, লিটন আহমদ গাজী, হারুন আহমদ, মোহাম্মদ সাইদুল, আলম আহমদ, মোহাম্মদ মেহেদী, জমির আহমদ, মালেক হোসেন, রতন মিয়া, বিকাশ দাশ, সুকেশ বাবু, হরেন্দ্র, কাদির আহমদ, মো: সাইদুল, মুমিন তফাদার প্রমুখ।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, ‘একাত্তর টিভির গত দেড় দশকের ভূমিকা সকলের জানা আছে। সেই একাত্তর টিভি ফ্যাসিবাদের ভাগিদার হয়ে কাজ করে আসছে। সে সময় স্কাইপি কেলেংকারি প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিবাদের চাপের কাছে মাথানত করেননি। আপোসহীনভাবে সংগ্রাম করে গেছেন এখন ফ্যাসিবাদের দোসররা তাকে থামানোর চেষ্টা করছে তা আমরা কোনোভাবে মেনে নেব না।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের মতো সাহসী কলমযোদ্ধার বিরুদ্ধে এই মুহুর্তে ফ্যাসিবাদের দোসরের মামলা করার অন্তবর্তী সরকারের দূর্বলতা। মাহমুদুর রহমান গত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদের লড়াই করে আসছেন। তাকে হয়রানির সিলেটবাসী বরদাস্ত করবে না।’

মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যদি মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফা কামাল অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করেন তাহলে মেঘনা গ্রুপকে মেঘনায় ভাসিয়ে দেয়া হবে।’