দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক লাকি আক্তার ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বৃহষ্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটে প্রথমে মানববন্ধন করেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় তারা ‘ফ্যাসিবাদের দিন শেষ, ইনসাফের বাংলাদেশ,’ ‘মবতন্ত্রের দিন শেষ, ইনসাফের বাংলাদেশ,’ ‘শাহবাগী না বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ,’ ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানান।
১. ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিস্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে কেউ মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করলে তাকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে মব তৈরি করে দায়িত্বরত নিরস্ত্র পুলিশের ওপর হামলাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৩. অবিলম্বে শাপলার কসাই লাকি আক্তার ও তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী দোসরদের গ্রেফতার করে শাহবাগের ২০১৩ সালের রাষ্ট্রবিরোধী সব ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে হবে।
৪. জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করে শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার স্বাধীন বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করে এই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।
৫. অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, ‘আমরা দেখেছি হাসিনার শাসনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী কোনো শক্তি যাতে তৈরি না হয় শাহবাগীরা তার সব চেষ্টাই করেছে, আমরা দেখেছি হাসিনা রেজিমে এই শাহবাগীরা দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করেছে। আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলে দিতে চাই, এটা ২০১৩ সাল না, এটা ২০২৫ সাল। এদেশের মানুষ যুদ্ধ করে হাসিনা রেজিমের পতন ঘটিয়েছে। শাহবাগীরা যদি মনে করে আগের রেজিমের মতো তারা নীল-নকশা বাস্তবায়ন করবে। তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া হবে না।’
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনা ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে মুছে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে যেই নাট্যমঞ্চের মাধ্যমে, সেই নাট্যমঞ্চের নাম গণজাগরণ মঞ্চ। এটি গণজাগরণ মঞ্চ নয়, এটি ছিলো গণতন্ত্রবিরোধী মঞ্চ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে গণজাগরণ মঞ্চের মতো আর কোনো নাট্যমঞ্চ হতে দেয়া হবে না।